প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ ১৯:০০
ছবি: সংগৃহীত
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, কারাগারে থাকা আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
গত ২২ আগস্ট রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চারজনকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলায় এবং সামাজিক সম্মানের আশঙ্কায় গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছিল, ঘটনার দিন মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ ৮ থেকে ৯টি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
এদিকে, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হওয়ায় আসামিদের কারাগার থেকে বাইরে এনে ডোপ টেস্ট করাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করা হয়। মব বা হামলার আশঙ্কায় আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারেই তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
এ সময় রংপুর মহানগর পুলিশের ডিবির একটি দলের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন। কারাগারের ভেতরেই দুই আসামির ডোপ টেস্টের প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তবে সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাদকের উপস্থিতি না পাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা মাদক সেবন করেছিলেন—পুলিশের আগের সেই দাবির সঙ্গে ডোপ টেস্টের ফলাফলের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে
সারাদেশ থেকে আরো পড়ুন