প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৫৭
ছবি: প্রতীকী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই নারী শিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক তরুণী বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বুড্ডা গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সরাইলের শাহবাজপুর গ্রামের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এক তরুণ নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন শাহবাজপুর গ্রামের রাকিব মিয়া (২২)। তিন নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করেন তিনি। পরে মোবাইল ফোনের আর্থিক সেবার মাধ্যমে তাঁদের দুই হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করা হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ওই তরুণ নৃত্যশিল্পী এক কিশোরী (১৬) ও এক তরুণীকে (১৯) নিয়ে সরাইল বিশ্বরোড মোড়ে আসেন। সেখান থেকে রাকিব মিয়াসহ দুই যুবক তাঁদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর সেতু এলাকায় নিয়ে যান। পরে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তাঁদের তিতাস নদের শাহবাজপুর এলাকায় নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, নদের মাঝখানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে পাঁচ যুবক ওই তিন শিল্পীকে জিম্মি করেন। দেশি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পুরুষ শিল্পীকে আটকে রেখে দুই নারী শিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নির্যাতনের পর রাত আটটার দিকে তিন শিল্পীকে নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানিতে ফেলে রেখে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অপর চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে
সারাদেশ থেকে আরো পড়ুন