সিলেট

চিকিৎসা সেবা বিপর্যস্ত

সুনামগঞ্জে ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪:৩১

হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ধারণক্ষমতার তিন গুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে মাত্র একচিলতে জনবল দিয়ে। শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও করিডোরে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। বিশেষ করে শিশু ও হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে চিকিৎসকের ৭৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন। ২৬৩টি নার্স পদের বিপরীতে আছেন ১৯৩ জন এবং ১৩৬টি অন্যান্য পদের বিপরীতে কাজ করছেন ৮৮ জন। অনেক বিভাগে নেই কোনো সিনিয়র বা জুনিয়র কনসালট্যান্ট। এমন চরম জনবল সংকটের মধ্যেই সম্প্রতি পাঁচজন চিকিৎসককে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছে, যেখানে এখনো হাসপাতালই চালু হয়নি। ফলে সীমিত চিকিৎসক নিয়ে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেখা মিলছে না। বিশ্বম্ভরপুর থেকে তিন মাসের শিশুকে নিয়ে আসা বুরহান উদ্দিন জানান, বেড তো দূরের কথা, ঠিকমতো দাঁড়ানোর জায়গাও না পেয়ে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। আরেক রোগীর স্বজন হাফসা বেগম জানান, ওয়ার্ড থেকে করিডোর—সবখানেই রোগী আর রোগী। এর মধ্যে পাঁচতলার শৌচাগার নষ্ট থাকায় ছয়তলায় দৌড়াতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালটির সদ্য চালু হওয়া আইসিইউ সেবাও সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহম্মদ হোসেন জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে সীমিত জনবল নিয়েই সাধ্যমতো সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং লোকবল নিয়োগের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিক ও স্থানীয়রা অবিলম্বে এই জনবল সংকট দূর করে হাওড়পারের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন