ছবি: সংগৃহীত
সিলেটে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। বেলা ২টার দিকে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন। তিনি জানান, মামলার ছয় আসামির মধ্যে একজন কারাগারে রয়েছেন। অন্য আসামিরা পলাতক।
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের অনুসন্ধানে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া যায়।
ঘটনার পর ওই বছরের ১২ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আরও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে পুলিশি হেফাজত থেকে কনস্টেবল হারুন অর রশিদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে ওই বছরের ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আকবর কারাগারে থাকলেও গত বছরের ১০ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। পরদিন ১১ আগস্ট সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
২০২১ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। এতে আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে অন্য পাঁচ আসামি হলেন—সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস, ফাঁড়ির তৎকালীন ‘টু-আইসি’ এসআই মো. হাসান উদ্দিন এবং আকবরের আত্মীয় ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ মামলার রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন নিহত রায়হানের স্বজনসহ সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার আদালতের রায়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে যাচ্ছে।
সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে
সিলেট থেকে আরো পড়ুন