ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। সিলেট নগরীজুড়ে শুরু হয়েছে কোরবানির প্রস্তুতির ব্যস্ততা। এরই মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নগরীতে ৫টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও অবৈধ হাটের বিস্তার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১৮ মে ২০২৬ থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত মোট ৯ দিনের জন্য পাঁচটি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নির্ধারিত স্থানগুলো হলো দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন খালি জায়গা, নতুন টুকের বাজার তেমুখী পয়েন্ট এলাকা, মিরাপাড়া, শাহপরাণ বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং দক্ষিণ সুরমার তেতলির এস ফন্ট মাঠ।
সিসিকের ঘোষণা অনুযায়ী, হাটগুলো স্বাস্থ্যসম্মত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে। ইজারাদারদের সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ নিশ্চিত করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাট সাব-লিজ দেওয়া এবং মহাসড়ক বা রেললাইনের পাশে পশু রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নগরবাসীর একটি অংশ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। নির্ধারিত হাটে পশু কেনাবেচা হলে যানজট, বিশৃঙ্খলা এবং আবাসিক এলাকায় পশুর অস্বাস্থ্যকর অবস্থান কিছুটা হলেও কমবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
পুরনো শঙ্কা, নতুন মৌসুম: তবে ঘোষণায় স্বস্তি মিললেও মাঠের বাস্তবতা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছরই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কম মূল্যে হাট ইজারা নেয় এবং পরে পুরো বাজার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
এর বাইরে প্রতি বছরই নগরের বিভিন্ন মোড়, সড়কের পাশ ও অলিগলিতে গড়ে ওঠে অবৈধ পশুর হাট। এসব হাটে কোনো রাজস্ব আদায় হয় না, অথচ সবচেয়ে বেশি অনিয়মও চলে এখানেই। অভিযোগ রয়েছে, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পশুবাহী ট্রাক অনেক সময় নির্ধারিত হাটে যেতে না দিয়ে এসব অবৈধ হাটে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে খামারিরা ন্যায্যমূল্য পান না, ক্রেতারা পড়েন প্রতারণার ঝুঁকিতে এবং বাড়তি যানজট ও পরিবেশ দূষণে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, এবার শুধু দরপত্র আহ্বান আর কাগুজে শর্তে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সিটি করপোরেশন মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করবে। অবৈধ হাট উচ্ছেদ এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ঠেকানো গেলে একদিকে যেমন সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারানো থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি ঈদবাজারে সাধারণ মানুষও স্বস্তিতে পশু কিনতে পারবেন।
ঈদ আসছে আনন্দের বার্তা নিয়ে। সেই আনন্দ যেন সিন্ডিকেটের ছায়ায় ম্লান না হয় Ñ এটাই এখন সিলেটের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন