সিলেট

শ্রীমঙ্গলে শ্রমিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, সাংবাদিকসহ আহত ২০

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ ০০:০৪

ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬ জন সাংবাদিকও রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘর্ষে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের হবিগঞ্জ সড়কে একটি সিএনজি পার্কিংকে কেন্দ্র করে প্রথমে এক মাইক্রোবাস চালকের সঙ্গে সিএনজি চালকের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা দুই শ্রমিক গ্রুপের সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের সময় চৌমুহনা, স্টেশন রোড ও পেট্রোল পাম্প এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতান বন্ধ হয়ে যায়। ইট-পাটকেলের আঘাতে কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে আহত হন শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্য আমজাদ হোসেন বাচ্চু, সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, এহসান বিন মুজাহির, নুর মোহাম্মদ সাগর, এস কে দাস সুমন ও শেখ জসিম।

সিএনজি শ্রমিকদের দাবি, মাইক্রোবাস শ্রমিকরা তাদের স্ট্যান্ডে গিয়ে হামলা চালালে তারা প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে মাইক্রোবাস শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের এক শ্রমিককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে স্কুল-কলেজ ছুটির সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেককে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

শ্রীমঙ্গল সিএনজি, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করে বলেন, খবর পেয়ে স্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পরই কয়েকজন লাইট গাড়ির চালক ও শ্রমিক তাদের ওপর হামলা চালায়।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নেতারা হাসপাতালে আহতদের খোঁজ নেন এবং পরে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি না ঘটে সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

 

সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে

সিলেট থেকে আরো পড়ুন