ছবি : সংগৃহীত
সিলেটে হাম পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এতদিন শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ মনে করা হলেও এখন কিশোর, তরুণ এবং তুলনামূলক বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও হামের উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন রোগী, যা চিকিৎসকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ জুন) পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সোমবার ২২ বছর বয়সী শিক্ষানবীশ নার্স জেরিন সুলতানার মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এস এম সাজ্জাদুল হক জানান, প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতজন, কখনো ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত বয়স্ক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যদিও হামকে সাধারণত শিশুদের রোগ হিসেবে ধরা হয়, তবে এবার বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩৯ জন রোগী।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ১৬৫ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬২ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সম্প্রতি শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা একই ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কারও হাতে স্যালাইন চলছে, কেউ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
ডা. সাজ্জাদুল হক বলেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের বড় একটি অংশের বয়স ১৫ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। তাদের অধিকাংশই জানেন না তারা শৈশবে হামের টিকা নিয়েছিলেন কি না কিংবা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অবস্থা কেমন।
তিনি জানান, বয়স্ক রোগীদের মধ্যে প্রথমে জ্বর, পরে শরীরে র্যাশ এবং কাশি দেখা যাচ্ছে। তিন থেকে চার দিন পর অনেকের তীব্র ডায়রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রায় ৯০ শতাংশ বয়স্ক রোগী ডায়রিয়ার সমস্যায় ভুগছেন। কারও কারও বমি, পেটব্যথা এমনকি রক্তক্ষরণের উপসর্গও দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে শিশুদের ক্ষেত্রে প্রধান জটিলতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া। চিকিৎসকদের মতে, নিউমোনিয়াই শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। তবে তুলনামূলকভাবে বয়স্ক রোগীদের সুস্থ হওয়ার হার বেশি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ জন বয়স্ক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা ২৮ জন বয়স্ক রোগীর মধ্যে একজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
তিনি হাম নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বর হলে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে হবে, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, হাম প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই।
সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে
সিলেট থেকে আরো পড়ুন