সিলেটে ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে নিহত র্যাব-৯ এর সদস্য ইমন আচার্যের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের আশ্চর্য পাড়ায়।
জানা গেছে, ইমন মাত্র ৩ মাস আগে বিয়ে করেন। স্বামীর মৃত্যুর খবরে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী। মা-বাবা পাগলপ্রায়।
নিহতের কাকা হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট পশ্চিম ধলই উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক প্রাণজিৎ আচার্য স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন- ইমন আচার্য মাত্র তিন মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কয়েকদিন আগে সে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল, এরপর আবার কর্মস্থল সিলেটে ফিরে যায়।
নিহতের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে বাবা-মা, স্ত্রী, ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইমন আচার্য ছিলেন মিশুক প্রকৃতির ও সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ।
শুক্রবার (২২ মে) সকালে তিনি একটি কাজে গিয়েছিলেন সিলেট কোতোয়ালি থানায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফিরছিলেন হেঁটে হেঁটে। এসময় টহলরত পুলিশ দেখে এক মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী দৌঁড় দেয় তাঁর পাশ দিয়েই। তৎক্ষণাৎ পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে ছিনতাইকারীকে আটকান তিনি। কিন্তু ছিনতাইকারী আটক থেকে বাঁচতে ছুরিকাঘাত করে বসে, সরাসরি ইমনের বুকের বাম পাশে। ফলে অকালে ঝরে যায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯ এ কনস্টেবল পদে কর্মরত থাকা ইমন আচার্যের প্রাণ।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ঘাতক আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করে পুলিশ। সে সিলেট মহানগরের কোতোয়ালি থানাধীন কাজিরবাজার এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। চিহ্নিত মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারী সে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে সচিত্র সিলেটকে জানান- ময়না তদন্ত লাশ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও ব্যাটালিয়ন রয়েছে।
তিনি জানান- এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন। পরিবারের কেউ বাদী হতে পারেন।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন