সিলেটের মেন্দিবাগ থেকে ফিফা বিশ্বকাপ
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ ০১:৩৩
ছবি ফেসবুক থেকে নেওয়া।
সিলেটের মেন্দিবাগ থেকে শুরু হওয়া এক তরুণের স্বপ্নযাত্রা এবার ছুঁয়ে যাচ্ছে বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ। টেলিভিশন পর্দায় যে ফুটবল তারকাদের দেখে বুঁদ হয়ে থাকতেন, এবার তাঁদেরই খুব কাছ থেকে দেখার এবং সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। আগামী FIFA World Cup 2026-এর অফিশিয়াল ভলেন্টিয়ার সুপারভাইজার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিলেটের কৃতিসন্তান মাছুমুর রহমান বাপ্পী।
টরন্টোর বাঙালি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় মুখ বাপ্পী রহমানের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক অনন্য গৌরব ও মর্যাদার অধ্যায়।
৮০ জনের মধ্যে সুযোগ পেলেন ১ জন
যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। জানা গেছে, এবারের বিশ্বকাপের ভলেন্টিয়ার প্রোগ্রামে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০ লক্ষাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে কেবল কানাডা থেকেই আবেদন করেন ৩ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ, যার মাঝে টরন্টো শহরেরই ছিলেন ২ লাখ ৪৮ হাজার আবেদনকারী।
টরন্টো হোস্ট সিটির জন্য শেষ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ভলেন্টিয়ারকে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৮০ জনেরও বেশি আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ১ জন এই সুযোগ পেয়েছেন। আর এই তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশি-কানাডিয়ান বাপ্পী রহমান শুধু ভলেন্টিয়ারই নন, বরং দায়িত্ব পেয়েছেন 'ভলেন্টিয়ার সুপারভাইজার' হিসেবে।
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে অনলাইনে আবেদনের পর থেকে চূড়ান্ত নির্বাচন পর্যন্ত পথটা মোটেও সহজ ছিল না। বাপ্পী রহমান জানান:
"আবেদন, কঠিন,বাছাইপ্রক্রিয়া, ইন্টারভিউ, শিফট অ্যাসাইনমেন্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকসহ নানা ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে। অনেক চেষ্টা, ধৈর্য এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছায় অবশেষে আমার সব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। খবরটা পাওয়ার পর প্রথম দিকে আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না!"
তিনি আরও জানান, তাঁর এই সেবামূলক কাজের হাতেখড়ি হয়েছিল দেশের মাটিতেই। শৈশবে স্কাউট আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু করে পরবর্তীতে রোটারি ক্লাব ও রেড ক্রিসেন্টের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পোলিও টিকাদান এবং ট্রাফিক সচেতনতার মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই আজ তাঁকে ফিফার মতো বৈশ্বিক মঞ্চে জায়গা করে দিয়েছে। পেশাগত জীবনে তাঁর হসপিটালিটি খাতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
মেসি-রোনাল্ডোদের কাছ থেকে দেখার রোমাঞ্চ
বিশ্বকাপ চলাকালীন ভলেন্টিয়ারদের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দেবেন সুপারভাইজার বাপ্পী। কড়া নিয়মকানুন ও পেশাদার আচরণবিধি মেনে দায়িত্ব পালন করতে হলেও, ফুটবল তারকাদের খুব কাছ থেকে দেখার রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে তাঁকে। বিশেষ করে নিজের প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোসহ বিশ্বের শীর্ষ তারকাদের খেলা মাঠ থেকে দেখার অপেক্ষায় এখন দিন গুনছেন তিনি।
বাপ্পী রহমান বিশ্বাস করেন, ভলেন্টিয়ারিং শুধু একটি সেবা নয়, বরং এটি নেতৃত্বগুণ এবং যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর দারুণ মাধ্যম। তিনি বলেন,
"এত বড় মঞ্চে কাজ করার সুযোগ পাওয়া স্বপ্নপূরণের সমান। একজন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান হিসেবে ভলেন্টিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের সামনে নিজের দেশ ও কমিউনিটিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার এই অনন্য সুযোগ আমি কাজে লাগাতে চাই।"
শৈশবের ফুটবলপ্রেম আর সমাজসেবার তাড়না আজ বাপ্পী রহমানকে নিয়ে গেছে এক ঐতিহাসিক চূড়ায়, যা আগামী দিনে প্রবাসে ও দেশে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন