পাঠকের আগ্রহ

আল্টিমেটামের পরও ‘বহাল’ সিলেটের ডিসি, নিশ্চুপ আরিফ!

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫ ১৬:০২

সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের প্রত্যাহার চেয়ে আল্টিমেটাম দিয়ে মাঠে নামেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ২ জুলাই জনসভা করে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেটের ডিসিকে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেন।এসময় পাশে টেনে নেন তাকে শীর্ষ দুর্নীতিবাজ বলা পরিবহণ নেতা ময়নুল হোসেনকেও। তার আস্কারা পেয়ে পরিবহণ কর্মবিরতি ঘোষণা করে পরিবহণ শ্রমিকদের একটি অংশ। কিন্তু পরিবহণ শ্রমিকদের আরেকটি অংশ সিলেটের সড়কে পরিবহণ চালানোর ঘোষণা দেয়। এমতাবস্থায় বিভক্তি দেখা দেয় পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে। বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয় সিলেট বিভাগীয় প্রশাসন। বৈঠকের প্রায় একঘন্টা আগেই মঙ্গলবার ২টার দিকে পরিবহণ কর্মবিরতি স্থগিত করার ঘোষণা দেয় মইনুলের নেতৃত্বধীন পরিবহণ শ্রমিকদের অংশ। পরে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কমিশনারের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের পরিবহণ শ্রমিকদের বৈঠক হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের প্রত্যাহার চাওয়া সিলেট বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়াও বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং জেলা ও মহানগর পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিটের  দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পর ‘সমঝোতা’ হলে প্রত্যাহার করা হয় পরিবহণ কর্মবিরতি। কিন্তু জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনায় আনেন নি বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী।

 

অনেকেই বলছেন,  ‘দলের শীর্ষ নেতাদের ধমকেই’ শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী নমনীয় হয়েছেন, সরে এসেছেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের প্রত্যাহার ইস্যু থেকে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) বিকেলে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে বিএনপি নেতা আরিফ ও জেলা প্রশাসক মুরাদ এক টেবিলে বসলেও দু'জনের মধ্যে কোনো কথা হয়নি।

এ নিয়ে গণমাধ্যমকে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হন নি তাঁরা। শুধু বলেছেন, ‘এটা পরিবহন মালিক ও শ্রমিকের সঙ্গে মতবিনিময়। সভায় যে কথাগুলো উঠে এসেছে সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

সম্প্রতি পাথরকোয়ারি নিয়ে শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে মাঠে সরব হন আরিফুল হক চৌধুরী। বিএনপির পক্ষ থেকে ‘তাদের দলীয় কর্মসূচি নয়’ জানানো হলেও সিলেটের শ্রমিক সংগঠনগুলো দখলে নেয় সিলেটের রাজপথ। গত ২ জুলাই সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সাবেক মেয়র আরিফ জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করেন।

সমাবেশে আরিফ বলেন, ‘ডিসি কোয়ারির বিষয়ে অংশীজনকে নিয়ে সভা ডেকেছেন। তবে পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী কিংবা পরিবহন শ্রমিক নেতা কেউ তার বৈঠকে যাননি। নির্যাতন-নিষ্পেষণ করার পর ডিসি বলছেন, এখন এসো। তাই সবাই ঘৃণাভরে এ বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেছেন।’ 

সমাবেশে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে ডিসিকে প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি। এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সমালোচনার লক্ষ্য হন আরিফুল হক চৌধুরী।

এদিকে শ্রমিকদের ছয় দফা দাবি মানা না হলে সিলেটে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েন বেশি বিপাকে। পাশাপাশি সিলেটে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে দুপুরে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করেছেন শ্রমিকরা।

ওইদিন বিকেলে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী পরিবহন শ্রমিক নেতা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরী,  মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলামসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের আগ্রহ থেকে আরো পড়ুন