বিশেষ প্রতিবেদন

হদিস নেই জালালাবাদ পার্কের কাটা গাছের

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:১৮

সিলেট নগরীর ক্বিনব্রীজের পাশে অবস্থিত জালালাবাদ পার্কটি প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ। এ সময়ের মধ্যে পার্কের ভেতরের তিনটি গাছ কেটে নিয়ে গেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। তবে কাটা গাছগুলো কোন হদিস নেই। কড়ই ও রেইন্ট্রি প্রজাতির ওই তিনটি গাছের আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা।  


সরেজমিনে দেখা গেছে, তালাবদ্ধ গেইটের কারণে জনসাধারণ পার্কে প্রবেশ করতে পারছেন না। ভেতরে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ, শুকনো পাতায় ভরা পথ এবং ভুতুড়ে পরিবেশ। পার্কের ভেতরে তিনটি গাছের গুঁড়ি কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।  


সূত্র জানায়, গত ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে সিসিকের নিরাপত্তা কর্মীরা পিকআপে করে কাটা গাছগুলো নিয়ে যায়। সিসিকের দাবি, ঝড়ে গাছ পড়ে যাওয়ায় তা অপসারণ করা হয়েছে। তবে গাছের কাঠ কোথায় গেছে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি। 
সিসিকের একাধিক সূত্র জানায়, বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই গাছ কাটা হয়েছে। কোনো টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা নিজেদের মতো গাছ কেটে নিয়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা এটিকে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।  


প্রায় ৯৪ শতক জায়গায় নির্মিত জালালাবাদ পার্ক ২০০৫ সালে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনায় বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। জনদাবি ও পরিবেশবাদীদের আন্দোলনের মুখে ২০১০ সালে সংস্কার করে পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। পরে শিশুপার্কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে পার্কটি জনবিচ্ছিন্ন পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।  


পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরা’র সদস্য সচিব আবদুল করিম চৌধুরী কিম বলেন, ‘জালালাবাদ পার্ক নগরবাসীর একটি সুনির্মল স্থান ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি বন্ধ রাখা দুঃখজনক। আর প্রক্রিয়া না মেনে গাছ কাটা হলে তা আরও দুঃখজনক।’  


সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, ‘ঝড়ে গাছ পড়ে যাওয়ায় তা কেটে অপসারণ করা হয়েছে। গাছটি কোথায় গিয়েছে তা খোঁজ নিয়ে জানানো হবে।’


সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি শীঘ্রই জালালাবাদ পার্কটি খুলে দেব। গাছ কাটতে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছগুলো খুঁজে বের করে সংরক্ষণ করা হবে’।
 

বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন