বিশেষ প্রতিবেদন

উদ্ধার অভিযান

লুটের প্রাণঘাতি অস্ত্রের খোঁজে পুলিশ 

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:৪৮

আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক সহিংসতা ঠেকাতে এসএমপি পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। চলমান অভিযানে এসএমপি ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল নগরী থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভারতীয় একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে। কিন্তু এখনও এসএমপির বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া প্রাণঘাতি ১৫টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। তবে লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ পুরষ্কার ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান শুরু করেছে এসএমপি।  

এসএমপি সূত্র জানায়, ১৪ জানুয়ারি রাতে নগরীর লন্ডনী রোডের নুর মঞ্জিল বাসার বাউন্ডারির বাইরের ঝোপ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পিস্তল উদ্ধার করে এসএমপি ডিবি। পিস্তলটি ভারতের তৈরি বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে এসএমপি পুলিশের ডিবি ইউনিট নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধারে নেমেছে। গোপন খবর পাওয়া মাত্রই অস্ত্র উদ্ধারে নিয়োজিত বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করবে। এছাড়াও গোয়েন্দা খবরের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান করছে পুলিশের বিশেষ দল। 

এসএমপির মিডিয়া সেল জানায়, জুলাই আন্দোলনের সময় এসএমপির বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে মোট ১০১টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৮৫টি অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে বাকি ১৬টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এই ১৬টি অস্ত্রের মধ্যে ১টি গ্যাস গান, সেটি প্রাণঘাতি নয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, ১৫টি প্রাণঘাতি অস্ত্র এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এগুলোর মধ্যে পিস্তল, শর্টগান ও ১টি চাইনিজ রাইফেল রয়েছে।

পুলিশের বিশেষ গোপনীয় শাখা সূত্র জানায়, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, তত অবৈধ অস্ত্রধারীদের নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে, জুলাই বিপ্লবী হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর থেকে সারাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। সে কারণেই সারাদেশের মতো সিলেটেও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় সিলেটের এসএমপি পুলিশ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি বাহিনির নিজস্ব ১৫টি অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছে এসএমপি। 

পুলিশের অপর একটি সূত্র বলছে, সিলেট নগরীতে নির্বাচনের আগে সহিংসতা মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতেই অবৈধ অস্ত্রের মালিক ও সম্ভাব্য জায়গার তালিকা তৈরিতে গোপনে কাজ করছে পুলিশের বিশেষ শাখা। তালিকা তৈরির পর আরও জোরালো অভিযান কার হবে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। 

স্থানীয় একাধিক গোপন সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হাতে থাকা অনেক অবৈধ অস্ত্র হাত বদল হয়েছে। ছাত্রলীগ পালিয়ে গেলেও তাদের অস্ত্রগুলো বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন লোকের হাতে রয়েছে। এসব অস্ত্র নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যবহৃত হতে পারে বলেই আশঙ্কা রয়েছে বলে পুলিশের বিশেষ শাখা সন্দেহ করছে। তাই সম্ভাব্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অবৈধ অস্ত্রের সন্ধানে গোপনে কাজ করছে পুলিশ। অস্ত্রের খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারে যাবে বিশেষ দল। 

জানতে চাইলে এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (উত্তর, মিডিয়া) বলেন,‘ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ডিবিসহ একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। যেখানেই অবৈধ অস্ত্রের খবর পাওয়া যাবে, সেখানেই এসএমপির এ বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করবে। এছাড়াও আমাদের বাহিনির লুট হওয়া ১৫টি ফায়ার গান উদ্ধারে অভিযানে অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে মোট লুট হাওয়া ১০১টি অস্ত্রের মধ্যে আমরা ৮৫টি উদ্ধার করেছি। বাকি ১৬টির মধ্যে একটি গ্যাস গান।’


 

বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন