বিএনপির ‘ব্যাকআপ’ কৌশল
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫:৫৯
মনোনয়ন প্রত্যাহারের কোনো বার্তা পাননি বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সিলেটের ৩ প্রার্থী। এখনও মাঠে সরব থাকতে তাদের নির্দেশ দিয়েছে দল। যে কারণে তারা চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবেই মাঠে সরব প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। তারা হলেন- সুনামগঞ্জ -১ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনে তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল ও সিলেট-৬ আসনে ফয়সল আহমদ চৌধুরী। বিষয়টি সিলেটের মানচিত্রকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির ভোটের মাঠে আলোচিত মনোনয়নপত্র দাখিল করা এ তিন বিকল্প প্রার্থী।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, প্রভাবশালী বিএনপি নেতারা যাতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে না দাঁড়ান, সেটি মাথায় রেখে তাদেরকে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে রাখা হয়। এছাড়া কোন কোন আসনের প্রার্থী অসুস্থ আবার কারও মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা থাকতে পারে এসব বিষয় মাথায় রেখেই একারনেই তাদেরকে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে রাখা হয়। অথচ বিকল্প তিন প্রার্থীই মনোনয়ন প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে গেছেন। এখন বিকল্প প্রার্থীদেরকে দল থেকে চিঠি দিলেই তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন বলে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে তারেক রহমান বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যপারে সমঝোতার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। ইতিমধে তার ডাকে সাড়া দিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে আবেগঘন পোস্টে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এদিকে যারা বিএনপির বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অটল আছেন, তারা শেষ মুহুর্তে ফিরবেন কিনা- এমন নিশ্চয়তা পায়নি দলটি। যারা দলের কমান্ডে আছেন, এমন নেতাদের প্রতি তারেক রহমান আহ্বান জানাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সিলেট-৬ আসনে ধানের শীষের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডবোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে। ওই আসনে দীর্ঘদিন ধরে মনোনয়ন পাওয়ার আশা নিয়ে কাজ করছেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তাকে দ;লীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন। এমরান আহমদকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পাশপাশি বিকল্প প্রার্থী হিসাবে রাখা হয় ফয়সল আহদ চৌধুরীকে। প্রথমে তার মনোনয়ন স্থগিত হয়। পরে সঠিক কাগজপত্র দিলে মনোনয়ন ফিরেও পান।
মনোনয়ন বাছাইয়ে টিকে যাওয়ার পর থেকেই থেকেই ফয়সল চৌধুরী মাঠে ব্যাপক গণসংযোগে ব্যস্ত আছেন। তিনি এখনও দল থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা পাননি। এ কারনে ফয়সল চৌধুরী নিজেকে ‘চূড়ান্ত প্রার্থী’ দাবি করে মাঠে সরব প্রচার চালাচ্ছেন। বিএনপির এ বিকল্প প্রার্থীকে এখনও প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ব্যপারে কোনো নির্ধেশনা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন,‘ আমি-ই সিলেট-৬ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী। যেহেতু আমাকে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেও, আমি জমা দিয়েছি। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর আমাকে বলা হয়েছে, মাঠে গণসংযোগ করতে। সে নির্দেশনা অনুসারে আমি গণসংযোগে আছি। এখনও দল থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ব্যাপারে আমি কোনো নির্দেশনা পাইনি। প্রতীক বরাদ্দের পর দলের চূড়ান্ত প্রার্থী আপনারা দেখতে পারবেন।’
সুনামগঞ্জ বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে প্রথমে মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ নেতা নাসির উদ্দিন চৌধুরীর পাশাপাশি তরুণ আইনজীবী তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলকে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। মনোনয়ন পেয়েই নির্বাচনী মাঠে সরব আছেন তরুণ এ নেতা। বয়সের কারণে নাসির চৌধুরীকেই একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় না নিয়ে কৌশলে বিকল্প প্রার্থী হিসাবে তাহির রায়হান পাবেলকে মনোনয়ন দেয় দলটি। এতে বিপুল উৎসাহে পাবেল দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দিনরাত নির্বাচনী গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এদিকে, সুনামগঞ্জ-১ আসনে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সাধারণ স¤পাদক আনিসুল হককে রেখে জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে বিকল্প প্রার্থী করেছে বিএনপি। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর থেকেই মাঠে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন কামরুল। কামরুল দাবি করেছেন, তার সঙ্গে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা রয়েছেন। ব্যাপক সমর্থন নিয়ে তিনি মাঠে নির্বাচনী প্রচার অব্যাহত রেখেছেন। এখনও তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কেনো ‘বার্তা’ পাননি। তবে মাঠে সরব থাকার নির্দেশনা পেয়েছেন।
তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল বলেন,‘ দলের নির্দেশ পেয়েই মনোনয়ন জমা দিয়েছি। দল আমাকে নির্দেশ দেওয়ার কারণে মাঠে গণসংযোগে আছি। এখনও আমি দল থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো ‘বার্তা’ পাইনি।’
জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,‘ দলের প্রচারণা চালাতে দল আমাকে নির্দেশ দিয়েছে। দলের কথায় আমি মনোনয়ন জমা দিয়েছি। দল আমাকে বলেছে, পরবর্তীতে যাকে প্রতীক দেওয়া হবে, তিনিই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে যাবেন। এখন আমি প্রতীক পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’
বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন