সিলেট

হোটেল কর্মীর স্বীকারোক্তি

পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কিশোরীকে গলাকেটে হত্যা

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬:১৪

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার লিলিকে (১৬) গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মিলন মল্লিক নামে এক হোটেল কর্মীকে সন্দেহভাজন হেসেবে গেপ্তার করে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।

র‌্যাব-৩ সূত্রে জানা যায়, মিলন লিলিকে বিভিন্ন সময় প্রেম প্রস্তাব দিয়েছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন জানিয়েছে, লিলির সঙ্গে তার সু-সম্পর্ক ছিল এবং সে মাঝে মাঝে লিলির কাছে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। লিলির পরিবার বাসা থেকে গ্রামে গেলে মিলন লিলিকে সঙ্গে নিয়ে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল।

গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে লিলিকে একা পেয়ে মিলন তাকে পালানোর প্রস্তাব দেয়। তবে লিলি এ প্রস্তাবে রাজি হয়নি এবং তাকে প্রত্যাখ্যান করে। এরপর মিলন এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

লিলি হবিগঞ্জের লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে। তার পরিবারে বাবা-মা ও বড় বোন থাকলেও হত্যার সময় কেউ বাসায় ছিলেন না। বিকেলে জিম থেকে ফিরে তার বোন বাসায় গিয়ে লিলিকে গলাকাটা অবস্থায় পায় এবং পুলিশকে খবর দেয়।

র‌্যাব জানায়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে বাগেরহাট সদর থানা এলাকায় র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-৬ যৌথ অভিযানে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে র‌্যাব আরও জানিয়েছে, বিস্তর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে। নিহত স্কুলছাত্রীর বাবা সজীব মিয়া দক্ষিণ বনশ্রীয়ে একটি হোটেল পরিচালনা করেন, যেখানে মিলন কাজ করতেন।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে গত শনিবার রাতে একটি মামলা হয়েছে।

পুলিশের খিলগাঁও অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার কায়েস ইকবাল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসা থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছিলেন খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

খিলগাঁও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা আক্তার (১৭) বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকত সে। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ চালান।

দুই দিন আগে ফাতেমার মা-বাবা ও ভাই হবিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে যান। ঢাকায় ফাতেমা ও তার বোন ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে ফাতেমার বোন জিমে যান। ফিরে এসে বাসায় ফাতেমার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। তখন বাসায় আর কেউ ছিল না।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন