সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধিন জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড়াই এই সমঝোতা হয়। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কে ৩০ টি আসন বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। তবে সিলেট বিভাগের ১৯ টি আসনের মধ্যে একটিও বরাদ্ধ পায়নি নবগঠিত এ দলটি।
বৃহস্পতিবার রাতে ‘১১ দলের’ পক্ষ থেকে এ আসন সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১০টিই জামায়াতকে দেওয়া হয়েছে। বাকি নয়টি আসন সমঝোতায় আসা অন্য দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এনসিপিকে কোন আসন দেওয়া হয়নি।
এরআগে সিলেট বিভাগের ১৯টির মধ্যে পাঁচটি আসনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছিলো এনসিপি। তারা হলেন, সিলেট-১ (সদর-নগর) আসনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) এহতেশাম হক। সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও নগরের ৬টি ওয়ার্ড) আসনে কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ। সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রকৌশলী মো. রাশেল উল আলম। মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) আসনে দলের যুগ্ম সদস্যসচিব ও সিলেট অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রীতম দাশ এবং হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে দলের কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও হবিগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়কারী নাহিদ উদ্দিন তারেক।
এদের মধ্যে এহতেশাম হকের মনোনয়ন বাছাইকালে বাতিল হয়। বাকীরা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদের মধে্য দু একজন মনোনয়ন পাওয়া ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদীও ছিলেন। তবে আসন সমঝোতার কারণে এবার তাদের বঞ্চিতই থাকতে হচ্ছে।
সিলেট বিভাগে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) কোনো আসন দেয়নি জামায়াত জোট।
সিলেট বিভাগের যে ১০টি আসনে প্রার্থী দেবে জামায়াত, সেগুলো হলো—সিলেট-১ (সিলেট সদর উপজেলা ও সিলেট সিটি করপোরেশন), এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান, সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা) মাওলানা লোকমান আহমদ, সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা) জয়নাল আহমদ, সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা) মো. সেলিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা উপজেলা) মোহাম্মদ শিশির মনির, সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা) মো. শামছ উদ্দিন, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা) আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা) মোহ্ম্মদ আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা) মো. সায়েদ আলী ও হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা) মো. শাহজাহান ।
সিলেট বিভাগে ৫টি আসন পেয়েছে খেলাফত মজলিস। এরমধ্যে সিলেট-২ আসনে দলটির প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলী, সিলেট-৫ আসনে মো. আবুল হাসান, মৌলভীবাজার-৩ আসনে প্রার্থী মোহাম্মাদ লুৎফুর রহমান কামালী, হবিগঞ্জ-২ আসনে প্রার্থী কেন্দ্রীয় আমীর মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আব্দুল কাদের।
সমঝতোয় সিলেট বিভাগের দুটি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে দলটির প্রার্থী মোহাম্মদ শাহিনুর পাশা চৌধুরী ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেরে সাথে টানাপেড়েন চললেও সিলেটের দুটি আসন তাদের জন্য বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। সেগুলো হলো- সুনামগঞ্জ-১ আসনে মো. রফিকুল ইসলাম ও হবিগঞ্জ-৩ আসনে মহিব উদ্দিন আহমেদ সুহেল।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার পর রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতায় ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে। এতে জামায়াত ১৭৯ আসনে প্রার্থী দেবে। এছাড়া এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৭, বিডিপি ২ ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে লড়বে। অন্য তিন দলের আসন ঘোষণা করা হয়নি।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন