বালুচাপায় পিষ্ট শ্রমিক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪১
কোম্পানীগঞ্জে মন্ত্রীর কঠোর হুমকি আর প্রশাসনের কঠোর নজরদারীও ঠেকাতে পারছে না বালু-পাথর লুটের মহোৎসব।মন্ত্রী-প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বালু ও পাথর লুট চলছে। এ অঞ্চলের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি–সংলগ্ন রেলওয়ের রজ্জুপথের সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছে এক শ্রমিক। নিহত শ্রমিক ফয়জুর রহমান (৩০) কোম্পানীগঞ্জের পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের পুরাতন মেঘারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি–সংলগ্ন রেলওয়ের রজ্জুপথের (রোপওয়ে) সংরক্ষিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করতে যান একদল শ্রমিক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ফয়জুর রহমানও। রাতে তারা বালু উত্তোলন করছিলেন। হঠাৎ বালু ধসে নীচে চাপা পড়েন ফয়জুর রহমান। এ সময় অন্য শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করেন এবং এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রজ্জুপথ এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করতেই ফয়জুর রহমান গিয়েছিলেন। নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন স্পট সাদা পাথরের পাশেই ভোলাগঞ্জ-ছাতক রেললাইনের লোডিং স্টেশন বা বাংকার। এখানে প্রায় ৩৫৯ একর জমি, অবকাঠামোসহ রেলের নানা স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি থাকলেও এখন অস্তিত্ব আছে কেবল ১৫ থেকে ২০ একর জায়গার। দিন বা রাত প্রশাসনের অনুপস্থিতে এখানে চলে অবৈধভাবে পাথর তোলার মহাযজ্ঞ। পাথর তুলতে তুলতে জায়গাটি পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত এক বিরানভূমিতে।
বিগত কয়েকদিনে এত লুটপাট হয়েছে যে এখন সংরক্ষিত এই এলাকার মাটি আর বালি ছাড়া কিছুই নেই। স্থানীয়রা বলছেন প্রশাসনের গাফিলতিতেই এমনটা হয়েছে।
ইতোমধ্যে রেলওয়ে রোপওয়েরও গুরুত্বপূর্ণ মালামালসহ প্রায় শতকোটি টাকার মালামাল লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। গাছ কেটে, মাটি খুঁড়ে তছনছ করে রাখা হয়েছে সরকারি এই সংরক্ষিত অঞ্চল। সম্প্রতি পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণে জেলা প্রশাসনের সাথে রেলওয়ে সংরক্ষিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন প্রতিনিধি। তারা বলছেন সম্পদ বেহাত হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসহযোগিতাই প্রধান কারণ।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন