সিলেট

শাবিতে নিয়ম লঙ্ঘন করে কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা

উপ-রেজিস্ট্রার হতে শর্ত শিথিলের আবেদন

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬ ১৬:৩০

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনপ্রাপ্তদের জন্য যোগ্যতার শর্ত শিথিল করে উপ-রেজিস্ট্রার ও সমমানের পদে নিয়োগ ও আপগ্রেডেশনের জন্য জোর তৎপরতা চলছে বলে জানা গেছে। যোগ্যতার শর্ত শিথিলের বিষয়টি রোববার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আলোচিত হতে পারে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

সূত্র জানায়, আজ বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় কর্মচারী থেকে পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা হওয়া ব্যক্তিদের উপ-রেজিস্ট্রার বা সমমান পদে উন্নিত হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান শর্ত শিথিলের আবেদন এজেন্ডাভুক্ত করা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকে কর্মকর্তা পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে সমালোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

 

সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভার ২৩৭.১৪-এর ক্রমিক ২ অনুযায়ী সহায়ক কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা হিসেবে আপগ্রেডেশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরবর্তীতে আপগ্রেডেশন ও প্রমোশনের মাধ্যমে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বা সমমান পদে উন্নিত হতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি এই সিদ্ধান্তটিও আইন লঙ্ঘন কি না যাছাই করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, সহায়ক কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা পদে সর্বোচ্চ দুটি আপগ্রেডেশনের সুযোগ ছিল। কিন্তু ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় নীতিমালা পরিবর্তন করে তাদের তিনটি আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে উপ-রেজিস্ট্রার বা সমমান পদে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

তবে সিন্ডিকেটের ওই সিদ্ধান্তে একটি শর্ত রাখা হয়েছে, শিক্ষাজীবনের পাবলিক পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি প্রাপ্তদের অতিরিক্ত এক বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এখন সেই শর্তও বাতিল করার জন্য কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা হওয়া ব্যক্তিদের একটি অংশ তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শর্তটি বাদ দেওয়ার জন্য তারা প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগও করছেন। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজেদের নিকটাত্মীয় ও আজ্ঞাবহ কর্মকর্তাদের সুবিধা দিতেই তারা এ তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এই সিদ্ধান্ত কে কেন্দ্র বিন্দুতে রেখে আজকের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানা গেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা বলছেন, যদি শর্ত শিথিল করা হয়, তাহলে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের মান নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠবে। একই সঙ্গে পদোন্নতির মাধ্যমে আরও উচ্চপদে যাওয়ার দাবি বাড়তে পারে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৯০ জন কর্মকর্তার মধ্যে প্রায় ২শ জনই কর্মচারী থেকে পদোন্নতি পেয়ে কর্মকর্তা হয়েছেন। এদের বেশিরভাগের প্রশাসনিক কাজ সম্পর্কে তেমন কোন জ্ঞান নেই। তাদের অধিকাংশ কম্পিউটার টাইপিং পর্যন্ত করতে পারেন না । কিন্তু তাদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের অনুকূলে সিদ্ধান্ত আদায় করে নেন।”

 

তারা আরও বলেন, “যদি বিষয়টি সিন্ডিকেটে আলোচনা হয়, তাহলে প্রশাসনের উচিত হবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নাকচ করা এবং পূর্বের কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা হওয়া ব্যক্তিদের উপ-রেজিস্ট্রার বা সমমান পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা।’

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি আইনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কোনো বিষয় এলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।”

 

যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ. এম. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তিনি দেখছেন।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


 শিরোনাম
news icon জৈন্তাপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশকালে নারী-শিশুসহ আটক ১৩ news icon সিলেটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অরাজকতা  news icon নগর ভবনের সামনে থালা হাতে হকারদের ধর্মঘট news icon নগর ভবনের সামনে হকারদের অবস্থান ধর্মঘট news icon হবিগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিহত বাবা ও ছেলে news icon টেকসই আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগকালে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী news icon টোকেনে শেষ সারাদিনের উপার্জন news icon গোয়াইনঘাটে গভীর রাতে ঘরে দুর্বৃত্তদের হানা, ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধার মৃত্যু news icon বিছানাকান্দিতে পানিতে ডুবে নিখোঁজ শাবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার news icon চামড়া শিল্পকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে