বিশেষ প্রতিবেদন

বাজেট অধিবেশন ৭ জুন

বৈষম্য দূর ও উন্নয়নের রোডম্যাপ চান সিলেটবাসী

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ ১৫:৪২

আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত বাজেট অধিবেশন। বিএনপি সরকার গঠনের পর এবারই প্রথম দেশের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেটকে ঘিরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা। সিলেটবাসী চান- নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতের দীর্ঘদিনের অবহেলা আর বৈষম্যের অবসান। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ধীরগতির কাজ দ্রুত শেষ করা, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল চালু, নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি এখন সিলেট অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের। 'সিলেটবাসী দেয় বেশি, পায় কম'- এই দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে এবারের বাজেটে মেগা প্রকল্প ও বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে সরকার সিলেটের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগে সর্বোচ্চ বরাদ্দের আশা মহানগর বিএনপির
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সিলেটের ২ জন মন্ত্রী এবং আরও একজন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। স্বাভাবিকভাবেই এবার বিভাগ ভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রত্যাশা করছে সিলেটবাসী। বিশেষ করে শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য এবং সার্বিক অবকাঠামো খাতে আমরা বড় ধরণের বরাদ্দ পাওয়ার আশা রাখি। সিলেটে একটি পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সদর হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা, ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিক ও বৈপ্লবিক উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বৈষম্যহীন অর্থনীতির দাবি বাসদ-এর
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সিলেট জেলার আহ্বায়ক আবু জাফর বলেন, আগামী বাজেট মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে একটি বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে প্রণীত হওয়া প্রয়োজন। আগামী অর্থবছরেই সিলেট অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের ডাবল ট্র্যাকিংয়ের কাজ শেষ করতে হবে। একই সাথে জনদুর্ভোগে অতিষ্ঠ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দেন মানুষ। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালটি অবিলম্বে চালু করা এবং এই অঞ্চলের বেকারত্ব নিরসনে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সিলেটবাসী দেয় বেশি, পায় কম' আক্ষেপ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের
সিলেটের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক লিয়াকত শাহ ফরিদী ঐতিহাসিকভাবে সিলেটের অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বলেন, অতীতের আসাম প্রদেশ থেকেই বঞ্চনার শিকার সিলেট। এই অঞ্চলে এখনও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি হয়নি, এমনকি সংসদীয় আসন বণ্টনেও সিলেট বৈষম্যের শিকার। একটা প্রচলিত কথা আছে- 'সিলেটবাসী দেয় বেশি, পায় কম'। এই বাস্তবতার পরিবর্তন দরকার। এবারের বাজেটে শিক্ষার উন্নয়ন, বন্যা ও মহানগরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখা দরকার। সিলেট অঞ্চলকে কীভাবে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সেই পরিকল্পনা নিতে হবে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজও আটকে আছে। রাজনৈতিকভাবে একটি দল সরকার গঠন করেছে, আমি প্রত্যাশা করব সরকার সিলেটের এই সমস্যাগুলোকে গুরুত্বের সাথে চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

রেমিট্যান্সের স্বীকৃতির দাবি জমিয়তের 
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালিক চৌধুরী বলেন, এবারের বাজেটের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা। এর পাশাপাশি রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ঢাকা-সিলেট ৬ লেনের ধীরগতির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সিলেটীদের কাছ থেকে, অথচ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সবসময়ই পিছিয়ে থাকে সিলেট। শিক্ষা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য- সবচেয়ে অবহেলিত খাত এখানে। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেটে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এবারের বাজেট নিয়ে সিলেটবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার আহবান ব্যবসায়ীদের
সিলেটের শিবগঞ্জের ব্যবসায়ী কাজী দুলাল আহমদ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সংকট তুলে ধরে বলেন, আমরা চাই আসন্ন বাজেটে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা থাকে। বাজারে জিনিসপত্রের দাম এতটাই চড়া যে, সাধারণ মানুষ আগে যেখানে ৫ কেজি পণ্য কিনতো, এখন টাকার সংকটে তার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। আমাদের চাওয়া- আমরা পাইকারি বাজারে কম মূল্যে পণ্য কিনতে পারলে, খুচরা বাজারেও সাধারণ মানুষের কাছে কম মূল্যে বিক্রি করতে পারব। বাজার স্থিতিশীল করাটা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

জীবনযাত্রার ব্যয়ে দিশেহারা শ্রমজীবী মানুষ
মিরাবাজার এলাকার রিকশাচালক রাজু মিয়া তার দৈনিক রোজগারের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, বাজারে সব জিনিসের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে মানুষের পকেটে টাকা নেই। পণ্যের মূল্য বাড়ায় মানুষ এখন রিকশা চলাচল কমিয়ে দিয়েছে, ফলে আমাদের যাত্রী কমে গেছে। খুব কম দূরত্ব হলে মানুষ টাকা বাঁচাতে এখন হেঁটেই চলে যায়। আমাদের মতো গরিব মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নতুন সরকারের কাছে অনুরোধ, বাজেটে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে আমরা দুমুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে পারি।

বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন