বিহারীপুরবাসীর যাতায়াত দুর্ভোগ
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:০২
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বিহারীপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের এক অভিশপ্ত সড়কে। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি ও কাদায় একাকার হয়ে যাওয়া এই সড়কে যানবাহন চলাচল তো দূরে থাক, পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই বেহাল দশার কারণে পাঁচ গ্রামের তিন হাজার মানুষ চরম অবর্ণনীয় দুর্দশার মুখোমুখি হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষা বা সামান্য বৃষ্টিতে সড়কটি চলাচলের পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কের বিশাল বড় বড় গর্তে পানি জমে কাদায় পরিণত হওয়ায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
বিহারীপুরের পাশ দিয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি খোজারগাঁও, নিজগাঁও, শাহপুর ও ভাদেশ্বরসহ অন্তত পাঁচ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। মিরপুরসহ বাহুবল উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এই পথটিই তাদের প্রধান মাধ্যম।
জরুরি সেবা ও কৃষিপণ্য পরিবহনে বাধা
সড়কটি শুধু চলাচলের জন্যই নয়, বরং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষিপণ্য পরিবহনেরও প্রধান রুট। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে কৃষকদের যেমন লোকসানের মুখে পড়তে হয়, তেমনই সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে। এলাকার কোনো গুরুতর অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় কাদামাখা এই পথ পাড়ি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও এই রাস্তার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। গত পাঁচ বছর ধরে সড়কটি একই বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।
বিপাকে শিক্ষার্থীরা
সবচেয়ে বেশি করুণ দশার শিকার হচ্ছে এলাকার স্কুলগামী শিশুরা। বিহারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেনা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বৃষ্টির দিনে কাদায় পিছলে পড়ে শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হওয়া নিত্যদিনের ঘটনা। ফলে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।
এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্দশা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শ্রী কুমার কৈরি জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় জানান, বিহারীপুর সড়কের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই সংবাদটিতে আর কোনো তথ্য বা বিন্যাসে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন আছে কি?
বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন