আধুনিক ব্লেন্ডার মেশিনের সহজলভ্যতা ও রেডিমেড প্যাকেটজাত মসলার দাপটে সিলেটের রান্নাঘর থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী শিলপাটা (পাটা-ফুতাইল)। ডিজিটাল যুগের ব্যস্ততায় গৃহিণী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে শিলপাটার ব্যবহার এখন প্রায় অনুপস্থিত। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিলেটের ‘প্রকৃতি কন্যা’ হিসেবে পরিচিত জাফলংয়ের পাথর কারিগরদের ওপর। চাহিদা কমায় এই শিল্পে ধস নেমেছে, ফলে বেকার হয়ে পড়া হাজারো কারিগর বাধ্য হয়ে পেশা বদল করছেন।
মাত্র এক দশক আগেও সিলেটের গ্রামীণ ও সামাজিক জীবনে শিলপাটার উপস্থিতি ছিল অনন্য। বিয়ের অনুষ্ঠানে “হলুদ বাঁটো, মেন্দি বাঁটো...” গীতের সুরে সুরে নারীরা কয়েক দিন আগে থেকেই শিলপাটায় হলুদ ও মেহেদি বাটতেন। তা ছাড়া বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে সুস্বাদু বাটা মসলার ব্যবহার ছিল প্রতিটি পরিবারে।
প্রযুক্তির কল্যাণে কষ্ট এড়াতে সবাই এখন আধুনিক ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও প্যাকেটজাত গুঁড়ো মসলামুখী হলেও বাটা মসলার স্বাদ ও ঘ্রাণ এখনো অতুলনীয়। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ গৃহিণী ফুলবিবি জানান, “আগের দিনে মানুষ সব খাবার তৈরিতেই শিলপাটা ব্যবহার করত। শিলপাটায় পেষা কাঁচামরিচ, শুটকি মাছ ও কালোজিরা ভর্তার স্বাদ আজও অতুলনীয়। মেশিনের গুঁড়ো মসলার চেয়ে পাটায় পেষা মসলার রান্নার ঘ্রাণ ও স্বাদ অনেক বেশি।”
একসময় পাড়া-মহল্লায় কাঁধে ভার নিয়ে খোদাইকারীদের সেই সুপরিচিত হাঁক—“পাটা খোদাইবেন, ডেকছির কান্দা লাগাইবেন”—আর শোনা যায় না। বাড়ির আঙিনায় হাতুড়ি-ছেনির পরিচিত শব্দও আজ বিলীন। গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্যবাহী এই স্মারক রক্ষায় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ প্রতিবেদন থেকে আরো পড়ুন