প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক বিপর্যয় ও বৈষম্য মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা জরুরি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার সুদৃঢ়। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের পক্ষে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে সংলাপ, বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়া বহুপাক্ষিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
জাতিসংঘের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমসাময়িক বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থাটিকে কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম করতে হবে। এ জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে বাংলাদেশ সমর্থন জানায়।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিক অংশীদারত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাস্তব কর্মকাণ্ড ও আন্তর্জাতিক সংহতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রতিকূল পরিবেশেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, লিঙ্গসমতা ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ দিবস বিশ্ব সংস্থার সনদের প্রাসঙ্গিকতা এবং অভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
বার্তায় মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বিষয়টিও তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত ও জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন।
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পাশাপাশি উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
বার্তার শেষাংশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধার, বিভেদ দূরীকরণ এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সারাবিশ্ব থেকে আরো পড়ুন