সারাবিশ্ব

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ ১৫:৪৮

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধের নিয়ম যথাযথভাবে পালন না করায় এবার বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 


ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব দেশ নিয়ম মানার ক্ষেত্রে গাফিলতি করছে, যার ফলে মার্কিন বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করেছে।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি কড়া বিবৃতি জারি করেছে ইউএসটিআর।

বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই ৬০টি দেশের বর্তমান নীতি ও কর্মকাণ্ড ত্রুটিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে এসব দেশের বাণিজ্য নীতি অত্যন্ত 'অযৌক্তিক' এবং তা মার্কিন বাণিজ্যের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মার্কিন আইন অনুযায়ী এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন বৈধ ও প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

ইউএসটিআর স্পষ্ট করেছে, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি হওয়া পণ্য যেন দেশের বাজারে ঢুকতে না পারে, তা ঠেকাতে ব্যর্থ দেশগুলোকে চিহ্নিত করেই এই তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের সাথে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, শ্রীলঙ্কা, তাইওয়ান, জাপান, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রগুলো।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকেরা বিশ্ববাজারে একটি চরম অন্যায্য ও অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।

এর আগে, গত ১২ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউএসটিআর জানিয়েছিল, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে এই দেশগুলো আসলে কতটা পদক্ষেপ নিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা মেনে এই তদন্ত চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন ও তার বাস্তব প্রয়োগ কতটা বৈষম্যমূলক এবং তা মার্কিন বাণিজ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে এই তদন্তে।

সারাবিশ্ব থেকে আরো পড়ুন