ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জেরে শফিকুর রহমান (৩৪) নামে এক যুবক ও তামান্না আক্তার জলি (২৬) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৃথক এ ঘটনায় পুলিশ মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
কমলগঞ্জে যুবকের মৃত্যু
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শফিকুর রহমান ওই গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ বসতঘরে শফিকুর আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানার এসআই সুবির বিক্রমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জগন্নাথপুরে গৃহবধূর মৃত্য
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে তামান্না আক্তার জলি আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের নিউমার্কেট কাঠালখাই (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জলি ওই গ্রামের আব্দুল মজিদ ও নাসিমা বেগমের মেয়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে জগন্নাথপুরের আলমপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মারুফ আহমেদের (৩২) সঙ্গে জলির বিয়ে হয়। তাঁদের ১৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর মারুফ সৌদি আরবে চলে গেলে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। বিষয়টি একাধিকবার সামাজিকভাবে মীমাংসারও চেষ্টা করা হয়।
সম্প্রতি আবারও দাম্পত্য কলহ দেখা দিলে ঘটনার ৬-৭ দিন আগে জলি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ঘটনার দিন সারাদিন স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে জলি বসতঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁর ১৩ মাস বয়সী শিশুর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত সিলেটের গোয়ালাবাজারে চিকিৎসক ইকবাল মাহমুদের চেম্বারে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসে জগন্নাথপুর থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে
সিলেট থেকে আরো পড়ুন