সিলেট

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার তলব, দুদকের তদন্ত শুরু

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:০৪

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল ত্যাগের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই ধারাবাহিকতায় আগস্ট মাসে কর্মরত সব চিকিৎসকের ডিউটি রোস্টার চেয়েছে সংস্থাটি।

 

দুদকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কর্মরত কিছু চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত হন না এবং দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে।

অভিযোগের তদন্তে গত ৮ সেপ্টেম্বর দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি বিশেষ দল ওসমানী হাসপাতালে অভিযান চালায়। এ সময় চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। পরে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার, বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্যসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চায় দুদক।

দুদকের সিলেট কার্যালয়ের চাহিদার ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত আগস্ট মাসের চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কে. এম. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত কর্মরত সব চিকিৎসকের ডিউটি রোস্টার জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এক কর্মদিবসের মধ্যে এসব তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে, গত ১ আগস্ট হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির এক বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে প্রবেশ ও প্রস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের হাসপাতালে প্রবেশের সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনায় চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর বহির্বিভাগের ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৬৫ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হন। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের আগে হাসপাতাল ত্যাগের হার বহির্বিভাগে ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৯০ শতাংশ।

ডিউটি রোস্টার ও বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে চিকিৎসকদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে বাস্তব উপস্থিতির সামঞ্জস্য পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমদ বলেন, ‘আমরা সব তথ্য সংগ্রহের পর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে ঢাকার কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠাব। এরপর ঢাকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

 

 

 

সি/মা/ডেস্ক/এসসিজে

সিলেট থেকে আরো পড়ুন