ছবি: সিলেট মানচিত্র
একুশ বছরের মধ্যে এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন। ২০০১ থেকে পরীক্ষা শুরুর পর ২০০৫ সাল পর্যন্ত পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে ছিল। এবারও পাসের হার এত নিচে নামল। এর আগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশে।
শনিবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪ জন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন। তিনি জানান, বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞানে পাসের হার সবচেয়ে বেশি, ৬৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।
ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় ছেলেরা এগিয়ে। মোট ১ হাজার ২০৪ জনের মধ্যে ৬১৯ জন ছেলে এবং ৫৯১ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা শুরুর পর পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে ছিল। এরপর থেকে ফলাফলে উন্নতির ধারা দেখা যায়। ২০০৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশে। ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০১৩ সালে তা কমে হয় ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে ছিল ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালে পরীক্ষা ছাড়াই অটোপাস দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৩৯ থেকে ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশের মধ্যে ছিল। তবে ২০২৫ সালে পাসের হার কমে ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। এবার তা আরও কমে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ হয়েছে।
ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন বলেন, পাসের হার কমলেও পরীক্ষার মান বেড়েছে। দেশের সার্বিক ফলাফলের তুলনায় সিলেটের ফলাফল খুব একটা খারাপ হয়নি। এবার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে পরীক্ষার্থীরা তুলনামূলক খারাপ করেছে। এ ছাড়া ইংরেজি ও রসায়ন বিষয়েও ফল ভালো হয়নি। এসব বিষয়ের ফল সার্বিক পাসের হারে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, গতানুগতিক ধারার বাইরে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পরীক্ষায় অনুপস্থিতিসহ কয়েকটি বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে তারা মনে করছেন।
ফলাফল ঘোষণার সময় বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দিদার চৌধুরী, কলেজ পরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম ও আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন